![]() |
| ছবি সংগৃহীত |
উত্তরের সীমান্ত জেলা ঠাকুরগাঁও এখন দেশের বাঁশের অন্যতম যোগানদাতা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত উন্নতমানের বাঁশ যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া, বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলার গ্রামে গ্রামে বাঁশ ঝাড়ের সমারোহ। রাস্তার দুই ধার, বাড়ির আঙিনা, পুকুর পাড় এবং পতিত জমিতে ব্যাপক হারে বাঁশ চাষ করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে বরাক, ডলু, মুলি, তল্লা ও মাকলা জাতের বাঁশের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
রুহিয়া থানার মন্ডলাদাম গ্রামের বাঁশ চাষি আব্দুল আলী বলেন, "একসময় বাঁশ বিক্রি হতো না। এখন প্রতি সপ্তাহে ঢাকা-বগুড়া থেকে পাইকাররা ট্রাক নিয়ে আসে। একেকটি বাঁশ ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধানের চেয়ে বাঁশে লাভ বেশি।"
ব্যবসায়ীরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের বাঁশ মোটা, লম্বা এবং টেকসই হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। নির্মাণ কাজে সাটারিং, কনস্ট্রাকশনের ভারা, পোলট্রি ফার্ম, পানের বরজ, সবজির মাচা এবং আসবাবপত্র তৈরিতে এই বাঁশ ব্যবহার হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও সদরের বাঁশ ব্যবসায়ী লক্ষণ রায় বলেন, "আমরা এখান থেকে বাঁশ কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছি। দিনে ২ থেকে ৩ ট্রাক বাঁশ যাচ্ছে। সামনে পূজা ও শীত মৌসুমে চাহিদা আরও বাড়বে।"
এদিকে বাঁশকে কেন্দ্র করে জেলায় গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প। রুহিয়ার রামনাথ হাট এলাকায় ১০ থেকে ২০টি পরিবার এখনো বাঁশ দিয়ে ডালা, কুলা, চালন, ঝাঁপি ও চাঙারি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের তৈরি পণ্যও যাচ্ছে বিভিন্ন হাট-বাজারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান,
ঠাকুরগাঁওয়ের বেলে-দোআঁশ মাটি বাঁশ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের বাঁশ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা পেলে এই খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন সম্ভব।
স্থানীয়দের আশা, পরিকল্পিত বাজারজাতকরণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ঠাকুরগাঁওয়ের বাঁশ শিল্প আরও প্রসারিত হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
